বাসে একদিন -০২
কাঁচপুর ব্রীজের ট্রাফিক সিগন্যাল এখন মগবাজার ট্রাফিক সিগন্যালের মত হয়ে গেছে। সিগন্যালে বসে থাকা বিরক্তিকর তখনই লাগে যখন দুই তিন সিগন্যালেও গাড়ি বের হতে পারে না। আরো খারাপ লাগে, যে গাড়িতে বসে আছি ওই গাড়িটাই যখন ট্রাফিক পুলিশ দাঁড় করায়। তখন এই বলে আক্ষেপ করি, ইশ আরেকটু সময় দিলেই তো আমাদের গাড়িটা বের হয়ে যেত। এই সময় অনেকে আবার পুলিশকেও গালি দেয়। কত কি যে বলে। কেউ যদি বুঝতো ট্রাফিক দায়িত্ব পালন করতে কতটা কষ্ট পোহাতে হয় তাহলে সে কখনো পুলিশকে গালি দিত না।
যাই বলুক তা শুনতে যতটা না খারাপ লাগে তারচে' বেশী খারাপ লাগে যখন কেউ সিগন্যাল শব্দটাকে সিংগেল বলে। একটা লোক বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ সিংগেল সিংগেল বলে যাচ্ছে। এটা শুনতে খুবই খারাপ লাগে আমার কাছে। যাই হোক বাস যখন সিগন্যাল পয়েন্ট অতিক্রম করলো তখন বিভিন্ন মসজিদের মাইকে আসরের আযান শোনা যাচ্ছিলো।
এটা ২০১৬ সালের শেষের দিকের কথা। আমি তখন সোনারগাঁয়ের এক মসজিদের ইমামতি করি। মসজিদের মাহফিলের কাজে চিটাগাংরোডে আসি। কাজ শেষে এখন ফিরতেছি। সাথে ছিলো এক মুসল্লি, পেশা হিসেবে সে সিএনজি চালক। আসরের আযান শুনে সে বললো নামাজ পড়তে হবে। আমি বললাম আমরা মসজিদে ফিরেও নামাজ পড়তে পারবো ইনশাআল্লাহ। একটু পরেই গাড়ি গিয়ে থামলো এক গ্যাস পাম্পে। গাড়িতে গ্যাস নিবে।
আমরা বসা ছিলাম বাসের পিছনের ছিটে। গাড়ি ভর্তি মানুষ ছিলো, গলি দিয়ে নামতে হলে অনেক দেড়ি হবে তাই আমার সাথের মুসল্লি জানালা দিয়ে নীচে নেমে গেলো। এভাবে কেন নামলো তা দেখার জন্যে আমিও নামলাম জানালা দিয়ে। গিয়ে
দেখি সে ওজু করে নামাজ ঘরে প্রবেশ করলো। আমার ওজু ছিলো তাই আমিও নামাজ ঘরে একসাথে নামাজ পড়ে নিলাম। নামাজ পড়ে বাসে ফিরলাম। আমার মনে একটা কৌতূহল জাগলো। আমি তার মসজিদের ইমাম সাহেব সে হিসেবে তো নামাজ নিয়ে তার চেয়ে আমার বেশী চিন্তা থাকার ছিলো কিন্তু আমি তো দেখছি আমার চেয়েও নামাজের প্রতি তার ইহতেমাম বেশী। আমি আমার কৌতূহলের কথা তাকে জানালাম। সে জবাবে যা বললো তা ঠিক তার ভাষায় এরকম↓
হুজুর, নামাজ পড়ে আমার কাছে যে প্রশান্তি লাগে তা আর অন্য কিছুতে পাই না। এছাড়াও নামাজ পড়লে আমার অনেক দুনিয়াবি লাভও হয়। জিজ্ঞেস করলাম কি রকম? সে বললো আমি অন্যের সিএনজি গাড়ি চার পাঁচ দিনের জন্যে এই শর্তে নিয়ে চালাই যে দিনশেষে তাকে ৪০০/- দিতে হবে। তো আমি আগে মাঝে মাঝে নামাজ পড়তাম আবার পড়তাম না। যখন নামাজ পড়তাম তখন দেখা যেত আমি গাড়ি চারপাঁচদিন চালিয়ে যে টাকা আসতো তা দিয়ে গাড়ির মালিকের নির্ধারিত টাকা দেয়া, আমার ঋণ পরিশোধ, ঘরের বাজার সদাই ইত্যাদি সব কিছু করেও আমার হাতে আরো কয়েকদিন চলার মত টাকা থাকতো। কিন্তু আমি যখন নামাজ পড়তাম না তখন দেখা যেত চারপাঁচদিন গাড়ি চালিয়ে মালিকের টাকা বুঝিয়ে দিলেও ঋণ পরিশোধ করতে পারতাম না। বাজার সদাই ততটা ভালো হতো না এবং হাতেও কোন টাকা থাকতো না। এ রকম কয়েকবার হওয়ার পর আমি বুঝতে পারি এটা নামাজের বরকত তাই তখন থেকে নামাজ আর কাজা করি না এবং যতটা সম্ভব আগে আগে আদায় করার চেষ্টা করি।
তার এই কথা শুনে আমি কুরআনের দুই আয়াতাংশ বিড়বিড় করে পড়তে লাগলাম
° ۚ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِب
"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন।"
যাই বলুক তা শুনতে যতটা না খারাপ লাগে তারচে' বেশী খারাপ লাগে যখন কেউ সিগন্যাল শব্দটাকে সিংগেল বলে। একটা লোক বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ সিংগেল সিংগেল বলে যাচ্ছে। এটা শুনতে খুবই খারাপ লাগে আমার কাছে। যাই হোক বাস যখন সিগন্যাল পয়েন্ট অতিক্রম করলো তখন বিভিন্ন মসজিদের মাইকে আসরের আযান শোনা যাচ্ছিলো।
এটা ২০১৬ সালের শেষের দিকের কথা। আমি তখন সোনারগাঁয়ের এক মসজিদের ইমামতি করি। মসজিদের মাহফিলের কাজে চিটাগাংরোডে আসি। কাজ শেষে এখন ফিরতেছি। সাথে ছিলো এক মুসল্লি, পেশা হিসেবে সে সিএনজি চালক। আসরের আযান শুনে সে বললো নামাজ পড়তে হবে। আমি বললাম আমরা মসজিদে ফিরেও নামাজ পড়তে পারবো ইনশাআল্লাহ। একটু পরেই গাড়ি গিয়ে থামলো এক গ্যাস পাম্পে। গাড়িতে গ্যাস নিবে।
আমরা বসা ছিলাম বাসের পিছনের ছিটে। গাড়ি ভর্তি মানুষ ছিলো, গলি দিয়ে নামতে হলে অনেক দেড়ি হবে তাই আমার সাথের মুসল্লি জানালা দিয়ে নীচে নেমে গেলো। এভাবে কেন নামলো তা দেখার জন্যে আমিও নামলাম জানালা দিয়ে। গিয়ে
দেখি সে ওজু করে নামাজ ঘরে প্রবেশ করলো। আমার ওজু ছিলো তাই আমিও নামাজ ঘরে একসাথে নামাজ পড়ে নিলাম। নামাজ পড়ে বাসে ফিরলাম। আমার মনে একটা কৌতূহল জাগলো। আমি তার মসজিদের ইমাম সাহেব সে হিসেবে তো নামাজ নিয়ে তার চেয়ে আমার বেশী চিন্তা থাকার ছিলো কিন্তু আমি তো দেখছি আমার চেয়েও নামাজের প্রতি তার ইহতেমাম বেশী। আমি আমার কৌতূহলের কথা তাকে জানালাম। সে জবাবে যা বললো তা ঠিক তার ভাষায় এরকম↓
হুজুর, নামাজ পড়ে আমার কাছে যে প্রশান্তি লাগে তা আর অন্য কিছুতে পাই না। এছাড়াও নামাজ পড়লে আমার অনেক দুনিয়াবি লাভও হয়। জিজ্ঞেস করলাম কি রকম? সে বললো আমি অন্যের সিএনজি গাড়ি চার পাঁচ দিনের জন্যে এই শর্তে নিয়ে চালাই যে দিনশেষে তাকে ৪০০/- দিতে হবে। তো আমি আগে মাঝে মাঝে নামাজ পড়তাম আবার পড়তাম না। যখন নামাজ পড়তাম তখন দেখা যেত আমি গাড়ি চারপাঁচদিন চালিয়ে যে টাকা আসতো তা দিয়ে গাড়ির মালিকের নির্ধারিত টাকা দেয়া, আমার ঋণ পরিশোধ, ঘরের বাজার সদাই ইত্যাদি সব কিছু করেও আমার হাতে আরো কয়েকদিন চলার মত টাকা থাকতো। কিন্তু আমি যখন নামাজ পড়তাম না তখন দেখা যেত চারপাঁচদিন গাড়ি চালিয়ে মালিকের টাকা বুঝিয়ে দিলেও ঋণ পরিশোধ করতে পারতাম না। বাজার সদাই ততটা ভালো হতো না এবং হাতেও কোন টাকা থাকতো না। এ রকম কয়েকবার হওয়ার পর আমি বুঝতে পারি এটা নামাজের বরকত তাই তখন থেকে নামাজ আর কাজা করি না এবং যতটা সম্ভব আগে আগে আদায় করার চেষ্টা করি।
তার এই কথা শুনে আমি কুরআনের দুই আয়াতাংশ বিড়বিড় করে পড়তে লাগলাম
° ۚ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِب
"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন।"


No comments