গালি না দিয়ে একটু ভাবুন

"গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না"

প্রথম বিতর্ক ছিলো মেয়ে মানুষ টিশার্ট পরে এমন প্রতিবাদ মানায় না।

দ্বিতীয় বিতর্ক হলো মেয়েটিকে কিছু ফটোতে দেখা যাচ্ছে তার গা ঘেঁষে অন্য কেউ দাঁড়িয়ে আছে বা মোটর সাইকেলের পিছে গা ঘেঁষে বসে আছে। সুতরাং এমন মেয়ে কি করে এমন প্রতিবাদ করে।

শুধু যে বিতর্ক হচ্ছে তা না গালিগালাজও চলছে। আমার কথা এই বিতর্ক বা গালিগালাজ নিয়ে না বরং গালিগালাজ করলে যে একটা বিষয় আড়ালে আবডালে ঢাকা পড়ে সেটা তুলে ধরা।

আপনি যখন বেশ্যা বলে গালি দিচ্ছেন তখন আপনার গালিটা মিথ্যাও হতে পারে। কারণ সে যা করেছে সেটাকে বেশ্যাবৃত্তি বলে না। না আপনার সংজ্ঞায় না তাদের সংজ্ঞায়।

আপনার সংজ্ঞা আর তাদের সংজ্ঞা কি তার আগে বলি আপনি কে আর তারা কে?

আপনি হলেন, মুসলিম সমাজে বাস করা একজন যুবক, আপনি চান না কেউ পর্দাহীন চলুক। যদিও আপনি কতটা পর্দা করেন মানে চোখ সংযত রাখেন তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবুও আপনি চান না মেয়েরা পর্দা ছাড়া চলুক। আপনি চান অফিসে যাক বোরকা পরে, ক্লাস করুক বোরকা পরে, অফিসের বস হোক বোরকা পরে।

আর তারা হলো, যারা নিজেদের প্রগতিশীল দাবী করে। বিদেশী কিছু সংস্থার ও জাতিসংঘের কিছু অঙ্গসংগঠনের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহোযোগিতায় কিছু এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। যেমন: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী অধিকার বাস্তবায়ন ইত্যাদি।

তারা যে বিদেশী এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে তা কতটুকু বাংলাদেশী মুসলিমদের প্রয়োজন সে আলোচনা আপাতত তুলে রাখলাম। তারা যেসব কর্মসূচী হাতে নিছে তার কিছু কাজ হলো আল্লাহর কিছু আদেশ অমান্য করার প্রতি মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করা।

তাই তারা বলে ইসলাম মেয়েদের ঘরে আবদ্ধ করে রাখে, ইসলামে নারী অধিকার নেই, মেয়েদের এটা নেই ওটা নেই। বোরকা মেয়েদের জন্য কলংক ইত্যাদি। এসব কথা সাধারণ মুসলিমদের মাথায় কিছু ভাসা ভাসা যুক্তি দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়। ইসলাম সম্পর্কে ভাসা ভাসা জ্ঞান রাখা মুসলমানরা এসব যুক্তিতে গলে যায়।

যাহোক তারা অনেকটা সফল হয়েছে। প্রথমে ওড়নাবিহীন করেছে। তারপর মেয়েদের শাড়ি-কামিজ থেকে জিন্স-টপে রূপান্তর করেছে।

এখন তারা মাঠে নেমেছে কি করে মেয়েদের আরও নরমাল পোশাক পরানো যায়। তারই একটি কৌশল হলো এই গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না টিশার্টটি।

যাহোক তাদের ইসলাম বিরোধী প্রচারণার অন্য একটি কৌশল হলো সংজ্ঞা পাল্টানো।

যেমন আপনি মুসলিম হিসেবে জানেন সামাজিক সম্মতি তথা  বিয়ে ছাড়া সব সম্পর্ক অবৈধ, যিনা বা ব্যভিচার।

কিন্তু তারা আপনাকে বলবে পারস্পরিক সম্মতি না থাকলে তা ধর্ষণ। চাই বিবাহিত হোক বা না হোক। তাই তাদের কাছে আঠারো বছরের আগে বিয়ে অপরাধ কিন্তু শারিরীক সম্পর্ক অপরাধ নয়।

এভাবে আপনার কাছে বিয়ে ছাড়া গা ঘেঁষে দাঁড়ানো ছোট ব্যভিচার কিন্তু তাদের কাছে এটা কোন অপরাধ নয়। ওই যে সংজ্ঞা চেঞ্জ করেছে।

আপনি মনে করেন মোটরসাইকেলে শুধু অন্য মেয়ে কেন আপন বোনের সাথেও গাঁ ঘেঁষে বসা ঠিক না। কিন্তু তারা এটাকে কিছু মনে করে না। বরং মুসলিমরাও যাতে এটাকে স্বাভাবিক মনে করে তাই তারা অনেক প্রচারণাও চালায়। কিছুদিন আগে শাহনাজ আক্তারের মোটরসাইকেল হারিয়ে যাওয়া ঘটনাটি যতটা না ছিলো তারচে হাজারগুণ বাড়িয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলো বিবিসি প্রথম আলোসহ এদের সহযোগীরা। শাহনাজকে আলোচনায় আনার পর সবচে বেশী যে প্রচারণা চালানো হয়েছে তা হলো তার বাইকে না চড়তে পুরুষদের আপত্তি নিয়ে। এই আপত্তি কেন তা নাকি শাহনাজ ও তার সমর্থকদের বুঝে আসে না।

ঠিক এমন একটি প্রচারণার অংশ হলো বিতর্কিত টিশার্ট বানানো। যাতে সবাই আলোচনা করে আর ভাইরাল হয়ে যায়। আর এইভাবে "মেয়েরা যে কোন পোশাক পরতে পারে" চেতনাটি সারা বাংলাদেশের সব মেয়েদের মনে ঢুকিয়ে দেয়া।

সুতরাং আপনি যখন মিথ্যা গালি দিচ্ছেন তখন তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে শুধু প্রচারণা চালাতে সহযোগিতা করছেন তা না বরং তাদের যে একটা পরিচয় আছে তা ঢেকে ফেলছেন। সুতরাং গালিগালাজ না করে একটু জানার চেষ্টা করুন টিশার্ট বানিয়েছে কে? টিশার্ট পড়লো কে? এরা কোন কোন সংগঠনে কাজ করে? এরা কি কি টপিকে সেমিনার করে? এসব খুঁজুন। তাহলে মুখে গালি আসবে না আসবে অন্য কিছু।

No comments

Powered by Blogger.